ঢাকা: রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

Follow :

31°C
ঢাকা রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

নওগাঁয় স্কুলের নিবন্ধনে সুপারিশ দিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁয় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) পাঠদানের অনুমোদন পেতে নিবন্ধনের সুপারিশ দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সায়েদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কয়েকজন বিদ্যালয় পরিচালক অভিযোগ করেছেন, সুপারিশ দেওয়ার আগে তাঁদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই তাঁরা টাকা দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত নওগাঁয় মোট ২১০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ৬ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মো. সায়েদুল ইসলাম। এরপর তাঁর সময়ে আরও ৩৩টি বেসরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বিদ্যালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গেলে পরিচালকদের অপেক্ষা করতে হয়। পরে তাঁদের একে একে নিজের কক্ষে ডাকেন শিক্ষা কর্মকর্তা। কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সুপারিশ দেওয়ার আগে সতর্কতার সঙ্গে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন তিনি। টাকা নেওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে সুপারিশ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের কেডির মোড় এলাকার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরিচালক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নিবন্ধনের জন্য সুপারিশ করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। আগে টাকা নিয়েছেন, পরে কাগজপত্রে সুপারিশ করেছেন। একপ্রকার বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়েছে। টাকা না দিলে তিনি সুপারিশ করবেন না এমন আশঙ্কা ছিল।’

ওই পরিচালক আরও বলেন, বিদ্যালয় নিবন্ধিত না হলে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এতে অভিভাবকদের কাছে জবাবদিহি করতে হয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। এ কারণে অনিয়মের প্রতিবাদ না করে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছেন তাঁরা।

শহরের কাজীর মোড় এলাকার আরেকটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরিচালকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সুপারিশের জন্য আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। খুব সতর্কতার সঙ্গে টাকা নিয়েছেন কর্মকর্তা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অফিসের একটি কক্ষে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পরিচালকরা অপেক্ষা করতেন। সেখান থেকে একজন একজন করে ডেকে নিয়ে সুপারিশ করেছেন এবং টাকা নিয়েছেন।’

সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ও বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমতি দিতে পারেন। এ অনুমতির মেয়াদ সনদ প্রদানের তারিখ থেকে এক বছর। অর্থাৎ প্রতিবছর অনুমতি নবায়ন করতে হয়। বিদ্যালয় নিবন্ধিত হলে সরকারিভাবে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ এবং বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে নিবন্ধন ও পাঠদানের অনুমোদন বিদ্যালয়গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সায়েদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ থেকে ২০ দিন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ততা ছিল। এর মধ্যেও অল্প সময়ের মধ্যে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করতে হয়েছে। সেখানে প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠান আছে কি না, শিক্ষার্থী ও পাঠদান কার্যক্রম রয়েছে কি না, সেগুলো যাচাই করেছি। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সুপারিশ করেছি।’

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সুপারিশ করার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে অনেকে খাম নিয়ে এসেছিলেন। আমি তা গ্রহণ করিনি। কেউ অতি উৎসাহী হয়ে খাম নিয়ে এলে সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও সুপারিশের কাজ করেছি।’

জনপ্রিয় ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় স্কুলের নিবন্ধনে সুপারিশ দিতে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নওগাঁয় বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) পাঠদানের অনুমোদন পেতে নিবন্ধনের সুপারিশ দেওয়ার নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সায়েদুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কয়েকজন বিদ্যালয় পরিচালক অভিযোগ করেছেন, সুপারিশ দেওয়ার আগে তাঁদের কাছ থেকে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই তাঁরা টাকা দিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই শিক্ষা কর্মকর্তা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত নওগাঁয় মোট ২১০টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গত ৬ আগস্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন মো. সায়েদুল ইসলাম। এরপর তাঁর সময়ে আরও ৩৩টি বেসরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বিদ্যালয়ের অনুমোদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে গেলে পরিচালকদের অপেক্ষা করতে হয়। পরে তাঁদের একে একে নিজের কক্ষে ডাকেন শিক্ষা কর্মকর্তা। কাগজপত্র যাচাইয়ের পর সুপারিশ দেওয়ার আগে সতর্কতার সঙ্গে ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেন তিনি। টাকা নেওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রে সুপারিশ করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শহরের কেডির মোড় এলাকার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরিচালক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নিবন্ধনের জন্য সুপারিশ করতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়েছেন। আগে টাকা নিয়েছেন, পরে কাগজপত্রে সুপারিশ করেছেন। একপ্রকার বাধ্য হয়েই টাকা দিতে হয়েছে। টাকা না দিলে তিনি সুপারিশ করবেন না এমন আশঙ্কা ছিল।’

ওই পরিচালক আরও বলেন, বিদ্যালয় নিবন্ধিত না হলে শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এতে অভিভাবকদের কাছে জবাবদিহি করতে হয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। এ কারণে অনিয়মের প্রতিবাদ না করে বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছেন তাঁরা।

শহরের কাজীর মোড় এলাকার আরেকটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের পরিচালকও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সুপারিশের জন্য আমার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। খুব সতর্কতার সঙ্গে টাকা নিয়েছেন কর্মকর্তা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অফিসের একটি কক্ষে বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পরিচালকরা অপেক্ষা করতেন। সেখান থেকে একজন একজন করে ডেকে নিয়ে সুপারিশ করেছেন এবং টাকা নিয়েছেন।’

সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী, নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ও বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেসরকারি বিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমতি দিতে পারেন। এ অনুমতির মেয়াদ সনদ প্রদানের তারিখ থেকে এক বছর। অর্থাৎ প্রতিবছর অনুমতি নবায়ন করতে হয়। বিদ্যালয় নিবন্ধিত হলে সরকারিভাবে শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পাঠ্যবই সরবরাহ এবং বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়। ফলে নিবন্ধন ও পাঠদানের অনুমোদন বিদ্যালয়গুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সায়েদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ থেকে ২০ দিন প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ততা ছিল। এর মধ্যেও অল্প সময়ের মধ্যে বেসরকারি বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন করতে হয়েছে। সেখানে প্রকৃতপক্ষে প্রতিষ্ঠান আছে কি না, শিক্ষার্থী ও পাঠদান কার্যক্রম রয়েছে কি না, সেগুলো যাচাই করেছি। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে সুপারিশ করেছি।’

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সুপারিশ করার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তবে অনেকে খাম নিয়ে এসেছিলেন। আমি তা গ্রহণ করিনি। কেউ অতি উৎসাহী হয়ে খাম নিয়ে এলে সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও সুপারিশের কাজ করেছি।’

জনপ্রিয় ক্যাটাগরি

জনপ্রিয় সংবাদ